প্রধান বিষয়বস্তুতে যান প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
কেন ২০২৭ বিশ্বকাপের ১৪ দলের সূচি ভক্তদের চমকে দিচ্ছে
নিবন্ধগুলিতে ফিরে যান

কেন ২০২৭ বিশ্বকাপের ১৪ দলের সূচি ভক্তদের চমকে দিচ্ছে

৭ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read

আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭ আয়োজন করছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া, আর টুর্নামেন্টটি চলবে ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। এই আসরে প্রথমবারের মতো ১৪টি দল খেলবে, সাতটি করে দ...

কেন ২০২৭ বিশ্বকাপের ১৪ দলের সূচি ভক্তদের চমকে দিচ্ছে

আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭ আয়োজন করছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া, আর টুর্নামেন্টটি চলবে ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। এই আসরে প্রথমবারের মতো ১৪টি দল খেলবে, সাতটি করে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে, আর মোট ম্যাচ ৫৪টি। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা তিন দল উঠবে সুপার সিক্সে, সেখান থেকে সেরা চার দল যাবে সেমিফাইনালে, আর ফাইনাল হওয়ার কথা জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ছিল ১০ দল ও ৪৮ ম্যাচ, তাই এবার ম্যাচ বেড়েছে ছয়টি। ভারতের ম্যাচের পূর্ণ তালিকা ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা যায়, তবে তারিখ ও ভেন্যু বদলাতে পারে। বাংলাদেশ থেকে দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকা চার ঘণ্টা পিছিয়ে, তাই দুপুরের ম্যাচ ঢাকায় বিকেলে পড়বে। করণীয় একটাই: আইসিসির অফিসিয়াল সূচি থেকে প্রিয় দলের ম্যাচগুলো আগে ক্যালেন্ডারে তুলে রাখুন, তারপর বাকি পরিকল্পনা সাজান।

অনেকেই ভাবেন বিশ্বকাপ মানে সেই চেনা রাউন্ড-রবিন, যেখানে সবাই সবার সঙ্গে খেলে। ধারণাটা ২০১৯ ও ২০২৩-এর জন্য ঠিক ছিল, ২০২৭-এর জন্য নয়। বোলিং বিশ্লেষণ-এ আমরা এবার সূচিটা ছকে ফেলে দেখলাম, আর কয়েকটা জায়গায় সত্যিই চোখ আটকে গেল, একটু খুলে বলি তাহলে।

আরও জানুন

২০২৭ বিশ্বকাপ কি ২০২৩-এর মতোই? দ্রুত তুলনা

না, কাঠামো আলাদা। ২০২৩-এ ১০ দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল, ২০২৭-এ ১৪ দল দুই গ্রুপে খেলবে, তারপর সুপার সিক্স ও সেমিফাইনাল। ম্যাচ ৪৮ থেকে বেড়ে ৫৪ হয়েছে, আর তিনটি দেশ মিলে আয়োজক।

আপনাদের সুবিধার জন্য পাশাপাশি রাখলাম, বুঝতেই পারছেন, একটা ছক দেখলে হিসাব অনেক সহজ হয়ে যায়।

বিষয় বিশ্বকাপ ২০২৩ বিশ্বকাপ ২০২৭
আয়োজক ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া
দলসংখ্যা ১০ ১৪
মোট ম্যাচ ৪৮ ৫৪
পর্ব লিগ, সেমিফাইনাল, ফাইনাল দুই গ্রুপ, সুপার সিক্স, সেমিফাইনাল, ফাইনাল
প্রতি দলের গ্রুপ ম্যাচ ৯ ৬

তথ্যের জন্য আমি মূলত উইকিপিডিয়ার ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ পাতা এবং আইসিসির অফিসিয়াল সাইট মিলিয়ে দেখেছি। সূচির খুঁটিনাটি হালনাগাদ হতে পারে, তাই চূড়ান্ত তারিখ সবসময় আইসিসির পাতা থেকেই মিলিয়ে নেবেন।

প্রথম রাউন্ড: গ্রুপ কাঠামো কেন দলগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি?

কারণ প্রতি দল গ্রুপে খেলবে মাত্র ছয়টি ম্যাচ। ২০২৩-এর নয়টির তুলনায় এটা অনেক কম, তাই একটা খারাপ দিনই পুরো অভিযানে ফাটল ধরাতে পারে। সাত দলের গ্রুপ থেকে উঠবে মাত্র তিনটি।

এবার একটা হিসাব, যেটা আমার চোখে বেশিরভাগ প্রতিবেদনে আসেনি। দুই গ্রুপে ৭ দল, প্রতি দল ৬ ম্যাচ খেললে গ্রুপ পর্বে ম্যাচ হয় ৪২টি। সুপার সিক্সে ছয় দল পরস্পরের বিপক্ষে খেলে ৯টি ম্যাচ (প্রতি দল নিজের গ্রুপের বাইরের তিন দলের সঙ্গে)। তারপর দুটি সেমিফাইনাল আর একটি ফাইনাল। যোগ করলে ৪২ + ৯ + ২ + ১ = ৫৪, ঠিক ঠিক মিলে যায়। অর্থাৎ সুপার সিক্সে মাত্র নয়টি ম্যাচে ফাইনালের চার জন নির্ধারিত হবে, আর ওখানে প্রতিটি ম্যাচের ওজন গ্রুপ পর্বের চেয়ে অনেক বেশি। ২০০৩ বিশ্বকাপের সুপার সিক্স ব্যবস্থায় গ্রুপের কিছু পয়েন্ট সামনে বয়ে নেওয়ার নিয়ম ছিল, ২০২৭-এও এমন কিছু থাকলে একই গ্রুপের দুর্বল দলকে হারানোর মূল্য কম, সুপার সিক্সে ওঠা দলকে হারানোর মূল্য বেশি হবে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, গ্রুপের শেষ ম্যাচ ভুলেও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়।

গ্রুপ পর্বে চোখ রাখার মতো বিষয়গুলো:

  • প্রতি দল সাতটি দলের গ্রুপে ছয়টি ম্যাচ খেলবে

  • গ্রুপ থেকে সেরা তিন দল সুপার সিক্সে যাবে

  • নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের ভেন্যুতে পিচের চরিত্র আলাদা হতে পারে

  • নেট রান রেট তিন নম্বর জায়গার ফয়সালা করতে পারে

    আরও জানুন

দ্বিতীয় রাউন্ড: দক্ষিণ আফ্রিকার পিচ কাকে সুবিধা দেবে?

সাধারণভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে বাউন্স ও গতি বেশি থাকে, তাই পেসাররা সুবিধা পান। জোহানেসবার্গের উচ্চতার কারণে বলও দ্রুত ছোটে। তবে ভেন্যুভেদে চরিত্র বদলায়, তাই একটা সাধারণ সূত্র ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে আমি সবসময় একটা নিয়ম মানি: আগে ভেন্যু, তারপর দল। পরিসংখ্যান বলে ওয়ান্ডারার্সের মতো উঁচু মাঠে বড় স্কোর হওয়ার প্রবণতা বেশি, আর সন্ধ্যার আলোয় লাল-মাটির উইকেটে সিম মুভমেন্ট কখনও কখনও খেলা ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বোলারদের জন্য এটা কঠিন পরীক্ষা, কারণ আমাদের স্পিন-নির্ভর পরিকল্পনা এখানে তেমন কাজে নাও আসতে পারে। তাই ম্যাচের আগে টস, উইকেটের রং আর ঘাসের পুরুত্ব দেখে নেওয়া এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত করুন। বোলিং বিশ্লেষণ-এর পাঠকরা জানেন, আমরা ব্যাটিং ও বোলিং কৌশলের আলোচনায় এই ছোট ছোট সূত্রগুলোকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। আরও গভীরে যেতে চাইলে দেখে নিতে পারেন [Internal Link: দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে পেস বোলিং কৌশল]।

তৃতীয় রাউন্ড: ঢাকা বা কলকাতা থেকে ম্যাচের সময় কীভাবে মেলাবেন?

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া ইউটিসি+২ অঞ্চলে, ঢাকা ইউটিসি+৬। ফলে ঢাকা চার ঘণ্টা এগিয়ে, ভারত সাড়ে তিন ঘণ্টা। স্থানীয় সময়ে সকাল ১০:৩০-এ ম্যাচ শুরু হলে ঢাকায় সেটা দুপুর ২:৩০।

এখানে একটা ব্যবহারিক সুবিধা আছে, যেটা অনেকেই খেয়াল করেন না। ২০২৩ সালে ভারতে ম্যাচগুলো ছিল দুপুরে ও সন্ধ্যায়, এবার ঘড়ির কাঁটা আমাদের পক্ষে। দিনের ম্যাচ দেখতে অফিস বা ক্লাসের মাঝখানে বিরতি লাগতে পারে, কিন্তু রাত জেগে ভোর পর্যন্ত দেখার ঝামেলা কম। স্থানীয় সময় বিকেলে শুরু হওয়া ম্যাচ ঢাকায় সন্ধ্যা বা রাতে পড়বে, ঠিক যেমনটা অনেকে চান।

সময় মেলানোর সহজ কয়েকটি ধাপ:

  1. আইসিসির সূচি থেকে প্রতিটি ম্যাচের স্থানীয় সময় দেখে নিন
  2. ঢাকার জন্য চার ঘণ্টা যোগ করুন, ভারতের জন্য সাড়ে তিন ঘণ্টা
  3. ফোনের ক্যালেন্ডারে ম্যাচ শুরুর ৩০ মিনিট আগে রিমাইন্ডার দিন
  4. টস ও দলের একাদশের খবরের জন্য ম্যাচের আগে একবার ঢুঁ মারুন

আরও জানুন

শেষ হিসাব: কার জন্য কোন পরিকল্পনা?

আপনি যদি নিয়মিত দর্শক হন, গ্রুপ পর্বের সেরা ম্যাচগুলো বেছে নিন এবং সুপার সিক্সের নয়টি ম্যাচ কখনও মিস করবেন না। সংখ্যা কম বলেই এই নয়টির ওজন সবচেয়ে বেশি, আর সেমিফাইনালের চার জন এখানেই ঠিক হবে।

আমার নিজের ক্ষেত্রে নিয়মটা খুব সোজা, আর একটু একগুঁয়ে বলতে পারেন: ফাইনাল ও সেমিফাইনাল ছাড়া কোনো ম্যাচের জন্য আমি ছুটি নিই না। তাতে ক্লান্তিও আসে না, মনোযোগও থাকে ধারালো। কেউ যদি ম্যাচ নিয়ে আলোচনা বা বিশ্লেষণ পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে খেলার আগে পিচ রিপোর্ট আর ম্যাচের পরে বোলিং ফিগার মিলিয়ে দেখাই ভালো অভ্যাস। আর যদি কেউ ক্রিকেটকে ঘিরে কোনো ধরনের বাজিতে আগ্রহী হন, অবশ্যই নিজের সীমা ঠিক করে নিন এবং নিজের দেশের আইন মেনে চলুন। ক্রিকেটের মজা খেলাতেই, ঝুঁকিতে নয়। দৈনিক আপডেটের জন্য আমাদের [Internal Link: বিশ্বকাপ ম্যাচ পর্যালোচনা ও পরিসংখ্যান] পাতাটি দেখতে পারেন, সঙ্গে [Internal Link: খেলোয়াড় পরিসংখ্যানের তালিকা] তো আছেই।

আরও জানুন

Frequently Asked Questions

Q: ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?

A: ২০২৭ বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। এই তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে, আর ফাইনাল জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হওয়ার কথা। নামিবিয়ার জন্য এটা প্রথম বড় আইসিসি পুরুষ বিশ্বকাপ আয়োজন, তাই ভেন্যুর তালিকা আইসিসির অফিসিয়াল সাইটে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

Q: বিশ্বকাপ ২০২৭-এ কয়টি দল ও কয়টি ম্যাচ থাকবে?

A: মোট ১৪টি দল খেলবে এবং ম্যাচ হবে ৫৪টি। দলগুলো সাতটি করে দুই গ্রুপে ভাগ হবে, প্রতি দল খেলবে ছয়টি গ্রুপ ম্যাচ। এরপর সুপার সিক্সে ৯টি ম্যাচ, তারপর দুটি সেমিফাইনাল ও একটি ফাইনাল। ২০২৩-এর ৪৮টির তুলনায় এটা ছয়টি বেশি।

Q: সুপার সিক্স আর সাধারণ লিগ পর্বের পার্থক্য কী?

A: সুপার সিক্স হলো গ্রুপ পর্বের পরের দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে দুই গ্রুপের সেরা তিনটি করে, মোট ছয়টি দল খেলে। এখানে প্রতিটি দল অন্য গ্রুপের তিন দলের সঙ্গে খেলে, ফলে ম্যাচ মাত্র নয়টি। সেরা চার দল যায় সেমিফাইনালে, তাই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।

Q: বাংলাদেশ থেকে ম্যাচের সময় কীভাবে হিসাব করব?

A: দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময়ের সঙ্গে চার ঘণ্টা যোগ করলেই ঢাকার সময় পাবেন। উদাহরণ হিসেবে সকাল ১০:৩০-এর ম্যাচ ঢাকায় দুপুর ২:৩০। ভারতের জন্য যোগ করবেন সাড়ে তিন ঘণ্টা। সবচেয়ে নিরাপদ হলো ফোনে টাইম জোন কনভার্টার চালু রাখা।

Q: সূচি বদলে যেতে পারে কি, কোথায় নিশ্চিত হব?

A: হ্যাঁ, বৃষ্টি, নিরাপত্তা বা সম্প্রচারের কারণে তারিখ ও সময় বদলাতে পারে। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ম্যাচের আগের দিন আরেকবার দেখে নিন, আর টিকিট কিনলে ভেন্যু ও সময় আবার যাচাই করুন।

Q: নতুন দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ ২০২৭ দেখার সেরা উপায় কী?

A: সুপার সিক্স ও নকআউট ম্যাচগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। গ্রুপ পর্বে নিজের প্রিয় দলের ছয়টি ম্যাচ ও বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচ বেছে নিলেই যথেষ্ট। আগে পিচ রিপোর্ট পড়ুন, পরে স্কোরকার্ড মিলিয়ে দেখুন, এতে আপনার ম্যাচ বোঝার ক্ষমতা দ্রুত বাড়বে।

আরও জানুন

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

লাইভ আর্কাইভ

বোলিং বিশ্লেষণ · Editorial Archive

সম্পর্কিত নিবন্ধ