প্রধান বিষয়বস্তুতে যান প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
ডিআরএসের অজানা ৫ সত্য
নিবন্ধগুলিতে ফিরে যান

ডিআরএসের অজানা ৫ সত্য

২০ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read

ক্রিকেটে ডিআরএস কীভাবে কাজ করে—এ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, প্রযুক্তি নাকি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করে দেয়। বাস্তবে ডিআরএস হলো আইসিসি-নিয়ন্ত্রিত একটি পর্যালোচনা ব্যবস্থা, যে...

ডিআরএসের অজানা ৫ সত্য

ক্রিকেটে ডিআরএস কীভাবে কাজ করে—এ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, প্রযুক্তি নাকি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করে দেয়। বাস্তবে ডিআরএস হলো আইসিসি-নিয়ন্ত্রিত একটি পর্যালোচনা ব্যবস্থা, যেখানে টেলিভিশন আম্পায়ার হক-আই, আলট্রাএজ ও ভিডিও রিপ্লে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত যাচাই করেন। সাধারণত খেলোয়াড়ের রিভিউ চাওয়ার সময়সীমা ১৫ সেকেন্ড, আর এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিট—এই তিন ধাপ দেখা হয়। আম্পায়ারস কল থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যদিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রিভিউ নষ্ট নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রক্রিয়া একই মৌলিক নীতিতে চলে। তাই ডিআরএসকে জাদু নয়, বরং সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের কাঠামো হিসেবে বোঝাই বুদ্ধিমানের কাজ।

A cricket stadium control room displaying Hawk-Eye ball tracking and third umpire review screens

ডিআরএস কি সত্যিই আম্পায়ারের ভুল পুরোপুরি দূর করে?

ডিআরএস মাঠের আম্পায়ারের ভুল কমাতে পারে, কিন্তু শতভাগ দূর করে না; প্রযুক্তি, দৃশ্যমান প্রমাণ এবং আইসিসির নির্ধারিত সীমার সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে আরও নির্ভরযোগ্য হয়। মাঠের আম্পায়ার প্রথম সিদ্ধান্ত দেন, আর প্রয়োজনে তৃতীয় আম্পায়ার সেই সিদ্ধান্তের প্রমাণ পরীক্ষা করেন।

ডিআরএসের পূর্ণ নাম সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাধারণত মাঠের দুই আম্পায়ার, তৃতীয় আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি, সম্প্রচারকারী প্রযুক্তি দল এবং দুই দলের অধিনায়ক এই কাঠামোর অংশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রযুক্তি কেবল তখনই মাঠের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে যখন প্রমাণ পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট হয়। অর্থাৎ “নিশ্চিতভাবে ভুল” না হলে মাঠের সিদ্ধান্ত টিকে যায়।

ডিআরএসের তিনটি প্রধান প্রযুক্তি আলাদা কাজ করে:

  • হক-আই বলের গতিপথ ও সম্ভাব্য উইকেট-হিট দেখায়।
  • আলট্রাএজ ব্যাটে বল লাগার ক্ষীণ শব্দ বা কম্পনের সংকেত বিশ্লেষণ করে।
  • উচ্চগতির ভিডিও বল, ব্যাট, প্যাড ও ক্যাচের অবস্থান যাচাই করে।
  • স্টাম্প ক্যামেরা ও স্নিকোমিটার সহায়ক প্রমাণ দিতে পারে, তবে প্রতিটি ম্যাচে সব প্রযুক্তি একইভাবে ব্যবহৃত নাও হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ডিআরএসের ফল কেবল প্রযুক্তির “অনুমান” নয়; মাঠের সিদ্ধান্ত, ব্যবহৃত ক্যামেরা এবং ম্যাচের প্রযোজ্য খেলার শর্তও ফল নির্ধারণ করে। তাই একই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ, ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে দেখতে এক হলেও সম্প্রচার-ব্যবস্থা ও অনুমোদিত প্রযুক্তির পার্থক্যে বিশ্লেষণ কিছুটা বদলাতে পারে। বোলিং বিশ্লেষণ-এর ম্যাচ পর্যালোচনায় এই সীমারেখা আলাদা করে দেখা জরুরি, বিশেষ করে এলবিডব্লিউ ও ক্যাচের ক্ষেত্রে।

আরও পরিষ্কারভাবে নিয়মগুলো বুঝতে এই সহায়ক পাঠটি দেখুন।

আরও জানুন

নির্দিষ্ট ঘটনা সামলাতে ডিআরএস কীভাবে কাজ করে?

ডিআরএস প্রথমে রিভিউয়ের ধরন শনাক্ত করে, তারপর সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রমাণ পরীক্ষা করে। এলবিডব্লিউতে পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিট দেখা হয়; ক্যাচে ব্যাটে স্পর্শ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং মাটি ছোঁয়ার বিষয় যাচাই করা হয়।

রিভিউ প্রক্রিয়াটি সাধারণত এভাবে এগোয়:

১. মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দেন এবং প্রয়োজন হলে খেলোয়াড় রিভিউ চায়।
২. অধিনায়ক বা ব্যাটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাতের ইশারায় রিভিউ সংকেত দেন।
৩. তৃতীয় আম্পায়ার ঘটনা গ্রহণ করে রিপ্লে, আলট্রাএজ, হক-আই বা অন্যান্য প্রমাণ বেছে নেন।
৪. প্রমাণ পর্যাপ্ত হলে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়; না হলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
৫. মাঠের আম্পায়ার শেষ সিদ্ধান্ত খেলোয়াড় ও দর্শকদের জানান।

এখানে ১৫ সেকেন্ডের নিয়মটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। ব্যাটার বা অধিনায়ককে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কারণ মাঠের আম্পায়ার সংকেত দেওয়ার পর সময় শেষ হলে রিভিউ গ্রহণ করা হয় না। টেলিভিশন আম্পায়ার নিজের ইচ্ছায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করেন না; খেলোয়াড়ের রিভিউ ছাড়াও নির্দিষ্ট ঘটনা, যেমন সম্ভাব্য নো-বল বা রান-আউট, ম্যাচের শর্ত অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হতে পারে।

একটি কম আলোচিত বিষয় হলো রিভিউয়ের ফল এবং রিভিউ হারানোর সম্পর্ক। এলবিডব্লিউতে প্রযুক্তির ফল যদি “আম্পায়ারস কল” হয়, অনেক আন্তর্জাতিক খেলার শর্তে দল রিভিউ ধরে রাখতে পারে; কিন্তু সরাসরি ভুল রিভিউ হলে সেটি সাধারণত কেটে যায়। এই নিয়ম বোঝা না থাকলে দর্শক মনে করতে পারেন, একই সংখ্যক রিভিউ থাকা সত্ত্বেও কেন এক দল আরও একটি সুযোগ পেল। এলবিডব্লিউ নিয়মের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ডিআরএসের সঠিক ব্যবহার ম্যাচের ফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি, ব্যাটারের শরীরের অবস্থান এবং বলের লাইন—সবই রিভিউয়ের মূল্য নির্ধারণ করে। কেবল জনপ্রিয় ব্যাটারের নাম দেখে রিভিউ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়; বলের উচ্চতা, সুইং এবং ব্যাট-প্যাডের দূরত্ব আগে বিবেচনা করা উচিত।

ক্রিকেট ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য নতুনদের নির্দেশিকা

রিভিউয়ের ব্যবহারিক দিকটি আরও ভালোভাবে বুঝতে এই সংক্ষিপ্ত নির্দেশনাটি অনুসরণ করতে পারেন।

আরও জানুন

আম্পায়ারস কল বা সীমান্তিক ঘটনায় কী হয়?

আম্পায়ারস কল হলো এমন ফল, যেখানে প্রযুক্তির পূর্বাভাস মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণ করে না। এলবিডব্লিউতে বলের ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের প্রান্তে বা সীমারেখায় পড়লে এই ফল দেখা যায়, তাই প্রযুক্তি থাকলেও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

এলবিডব্লিউ রিভিউকে তিনটি আলাদা প্রশ্নে ভাগ করা হয়:

  • বল কি বৈধভাবে পিচ করেছে?
  • বল ব্যাটে লাগার আগে প্যাডে আঘাত করেছে কি?
  • বলটি স্টাম্পে আঘাত করত কি?
  • ব্যাটার শট খেলতে চেষ্টা করেছিল কি না—প্রযোজ্য নিয়মে সেটিও বিবেচ্য।

হক-আই বলের সম্ভাব্য গতিপথ দেখালেও এটি ক্যামেরায় ধরা বাস্তব পথ নয়; বল প্যাডে আঘাতের পর যদি দৃশ্যমান অংশ না থাকে, তাহলে সফটওয়্যার পূর্ববর্তী তথ্য ব্যবহার করে অনুমান তৈরি করে। এই কারণেই স্টাম্পের প্রান্তে আঘাতের সম্ভাবনা থাকলে আম্পায়ারস কল চালু থাকে। আইসিসির প্রযুক্তিগত দর্শন এখানে বেশ সংযত: “স্পষ্ট ও নির্ণায়ক প্রমাণ না থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে”—এই নীতি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার কেন্দ্রে।

ক্যাচের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমা আছে। আলট্রাএজ শব্দ বা তরঙ্গ দেখালেই ব্যাটে বল লাগা প্রমাণিত হয় না; ব্যাটের নড়াচড়া, বলের অবস্থান এবং ভিডিওর সময়ক্রম মিলিয়ে দেখা হয়। বল মাটিতে স্পর্শ করেছে কি না, আঙুলের নিচে বল নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, কিংবা ফিল্ডারের শরীরের কোনো অংশ বাউন্ডারি স্পর্শ করেছে কি না—এসব আলাদা প্রশ্ন। এক ফ্রেমকে পুরো সত্য ধরে নেওয়া তাই পেশাদার বিশ্লেষণ নয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ দর্শক প্রায়ই জানেন না: প্রযুক্তির গ্রাফিক স্ক্রিনে দেখানো বলের পথ দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত-সহায়ক, নিজে কোনো আইন নয়। ম্যাচের অনুমোদিত খেলার শর্ত এবং প্রযুক্তি-অপারেটরের ক্যালিব্রেশনও গুরুত্বপূর্ণ। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ক্রিকেট আইন বলের বিধিবদ্ধ অবস্থান ব্যাখ্যা করে, আর আইসিসির ম্যাচ শর্ত সেই আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্ধারণ করতে পারে।

Third umpire reviewing a close LBW decision, red ball trajectory projected beside cricket stumps

ডিআরএস কোথায় ব্যর্থ বা সীমাবদ্ধ?

ডিআরএস ব্যর্থ হয় না এক অর্থে, কিন্তু এর নির্ভুলতা সীমিত হয় যখন ক্যামেরা-অ্যাঙ্গেল, শব্দের মান, বলের দৃশ্যমানতা বা পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ভুল কমায়; এটি এমন কোনো যন্ত্র নয় যা প্রত্যেক বিতর্কিত মুহূর্তে একক ও অমোঘ সত্য তৈরি করে।

প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলো হলো:

  • আলট্রাএজে ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ থাকলে ক্ষীণ স্পর্শ শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
  • ব্যাট ও প্যাড প্রায় একই সময়ে কাছাকাছি থাকলে শব্দের উৎস বোঝা জটিল হয়।
  • হক-আই বলের ভবিষ্যৎ পথ অনুমান করে, তাই প্রান্তিক ইমপ্যাক্টে আম্পায়ারস কল থাকতে পারে।
  • ক্যামেরা ব্লক হলে ক্যাচের মাটি-স্পর্শ বা ফিল্ডারের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট নাও হতে পারে।
  • আলো, বৃষ্টি, পিচের আর্দ্রতা এবং বলের ক্ষয় ভিডিও বিশ্লেষণের গুণমান প্রভাবিত করতে পারে।

নো-বলের ক্ষেত্রেও দর্শকের ধারণা ও বাস্তব প্রোটোকলের মধ্যে পার্থক্য আছে। সামনের পা ক্রিজের পেছনে ছিল কি না, সেটি স্টাম্প ক্যামেরা বা নির্দিষ্ট রিপ্লেতে দেখা যায়; কিন্তু প্রতিটি নো-বল একই স্তরের স্বয়ংক্রিয় পর্যালোচনার আওতায় পড়ে না। প্রতিযোগিতার ধরন, সম্প্রচার সুবিধা এবং প্রযোজ্য আইসিসি শর্ত অনুযায়ী পরীক্ষা বদলাতে পারে। তাই “ডিআরএস আছে মানেই সব নো-বল ধরা পড়বে”—এই ধারণা অতিরঞ্জিত।

চোট, টাইমড-আউট বা মাঠের আচরণসংক্রান্ত ঘটনাও ডিআরএসের প্রচলিত বল-ট্র্যাকিং পর্যালোচনার বিষয় নয়। তৃতীয় আম্পায়ার ভিডিও সহায়তা দিতে পারেন, কিন্তু সেটিকে এলবিডব্লিউ রিভিউয়ের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। একইভাবে, ব্যাটারের রিভিউ সংখ্যা ও দলের রিভিউ সংখ্যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়; অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অধিনায়ক দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেন, ব্যাটার নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রযুক্তিগত রিভিউ পরিচালনা করেন না।

বোলিং বিশ্লেষণ-এর জন্য এখানে একটি কঠিন কিন্তু মূল্যবান শিক্ষা আছে: রিভিউয়ের সম্ভাবনা হিসাব করতে শুধু “আউট মনে হচ্ছে কি না” যথেষ্ট নয়। বলের গতি, সুইং, ব্যাটারের ক্রিজে অবস্থান, পিচিং অঞ্চল এবং আম্পায়ারের সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণ একসঙ্গে দেখতে হয়। উন্নত ব্যাটিং ও বোলিং কৌশল বিশ্লেষণ

প্রযুক্তির সীমা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আরও জানতে এই পরবর্তী অংশটি পড়ুন।

আরও জানুন

আজ কি ডিআরএসকে একমাত্র সত্য ধরে নেওয়া উচিত?

ডিআরএসকে একমাত্র সত্য না ধরে, মাঠের সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের যৌথ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত। এটি বিশেষত এলবিডব্লিউ, ক্যাচ এবং রান-আউটে অত্যন্ত কার্যকর, কিন্তু সীমান্তিক ফল, অসম্পূর্ণ ভিডিও বা অনুমাননির্ভর বলের গতিপথে সতর্ক ব্যাখ্যা জরুরি।

ডিআরএস ব্যবহারে ভালো অধিনায়ক সাধারণত চারটি বিষয় বিবেচনা করেন:

১. মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত কতটা দুর্বল বা শক্তিশালী ছিল।
২. বল ব্যাটে লাগার সম্ভাবনা এবং আলট্রাএজের পরিষ্কার সংকেত।
৩. এলবিডব্লিউতে পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিটের ঝুঁকি।
৪. রিভিউ ব্যর্থ হলে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের সুযোগ কতটা কমবে।

এখানে একটি বাস্তবসম্মত বিপরীত মত আছে: জনপ্রিয় ব্যাটারকে বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে রিভিউ নেওয়া সবসময় ভালো কৌশল নয়। যদি বল ব্যাট ও প্যাডের মাঝখানে স্পষ্ট ফাঁক না থাকে, আলট্রাএজে শব্দ অস্পষ্ট হয় এবং মাঠের আম্পায়ার নট-আউট দেন, তাহলে রিভিউয়ের লাভ সীমিত হতে পারে। বিপরীতে, বল স্টাম্পের লাইনে পিচ করে সরাসরি প্যাডে আঘাত করলে এবং ব্যাটারের শটের চেষ্টা না থাকলে রিভিউয়ের সম্ভাব্য মূল্য বেশি।

ক্রিকেট ভক্তদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো রিপ্লে দেখার সময় ধারাভাষ্যের আবেগ বাদ দিয়ে তিন স্তর আলাদা করা: বাস্তব ভিডিও, প্রযুক্তির পূর্বাভাস এবং আইনগত সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই তিনটি স্তর আলাদা করে দেখলে কেন তৃতীয় আম্পায়ার কোনো সিদ্ধান্ত বদলালেন না, তা অনেক পরিষ্কার হয়। উইকিপিডিয়ার ডিআরএস সংক্ষিপ্তসার ইতিহাস ও ব্যবহারের একটি প্রাথমিক মানচিত্র দিতে পারে, যদিও চূড়ান্ত নিয়মের জন্য আইসিসির নথিই বেশি নির্ভরযোগ্য।

বোলিং বিশ্লেষণ এই কারণেই ম্যাচ পর্যালোচনায় রিভিউয়ের ফলের পাশাপাশি সিদ্ধান্তের মান, বলের অবস্থান এবং প্রমাণের শক্তি আলাদা করে তুলে ধরে। ডিআরএসের উদ্দেশ্য বিতর্ক শূন্য করা নয়; উদ্দেশ্য হলো দুর্বল সিদ্ধান্তের সংখ্যা কমিয়ে একই নিয়মে তুলনামূলকভাবে ন্যায্য ফল আনা। এটাই এর বাস্তব মূল্য, এবং এই সীমিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বুঝেই এটি ব্যবহার করা উচিত।

ডিআরএস নিয়ে নিয়মিত ম্যাচ বিশ্লেষণ পেতে এই শেষ নির্দেশনাটি অনুসরণ করতে পারেন।

আরও জানুন

Bangladesh cricket players watching a giant stadium screen during a tense DRS review under floodlights

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে ডিআরএস কী?

উত্তর: ডিআরএস হলো মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির সাহায্যে পুনরায় যাচাই করার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পদ্ধতি। এতে তৃতীয় আম্পায়ার ভিডিও রিপ্লে, হক-আই, আলট্রাএজ এবং অন্যান্য অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এলবিডব্লিউতে সাধারণত পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেট-হিট পরীক্ষা করা হয়। তবে প্রযুক্তি স্পষ্ট প্রমাণ না দিলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যাকে আম্পায়ারস কল বলা হয়।

প্রশ্ন: ডিআরএস রিভিউ কীভাবে নিতে হয়?

উত্তর: মাঠের অধিনায়ক বা ব্যাটারকে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে রিভিউ সংকেত দিতে হয়। এরপর তৃতীয় আম্পায়ার সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণের ধরন পরীক্ষা করেন। রিভিউ নেওয়ার আগে বল ব্যাটে লেগেছে কি না, এলবিডব্লিউ হলে বলের লাইন কেমন, এবং দলের অবশিষ্ট রিভিউ কত—এসব দ্রুত বিবেচনা করা উচিত। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সাধারণত রিভিউ গ্রহণ করা হয় না।

প্রশ্ন: আম্পায়ারস কল ও ডিআরএসে আউটের পার্থক্য কী?

উত্তর: আম্পায়ারস কল হলে প্রযুক্তি মাঠের সিদ্ধান্তকে স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণ করে না, তাই মূল সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সরাসরি আউট বা নট-আউট হলে প্রযুক্তিগত প্রমাণ মাঠের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো যথেষ্ট পরিষ্কার হয়েছে। এলবিডব্লিউতে স্টাম্পের প্রান্তে বল লাগার পূর্বাভাস, সীমান্তিক ইমপ্যাক্ট বা পিচিং অঞ্চলের অনিশ্চয়তা আম্পায়ারস কল তৈরি করতে পারে। আম্পায়ারস কলের এই ফল অনেক ক্ষেত্রে দলের রিভিউও নষ্ট করে না।

প্রশ্ন: ডিআরএস কেন কখনো ভুল মনে হয়?

উত্তর: ডিআরএসের ফল ভুল মনে হতে পারে কারণ হক-আই ভবিষ্যৎ বলের গতিপথ অনুমান করে এবং আলট্রাএজ শব্দ-সংকেত বিশ্লেষণ করে। ক্যামেরা-অ্যাঙ্গেল, ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ, বৃষ্টি, আলো বা বলের আংশিক আড়াল প্রমাণের মান কমাতে পারে। তাই প্রযুক্তি সবসময় একক সত্য দেয় না; ম্যাচের খেলার শর্ত, আম্পায়ারস কল এবং উপলব্ধ ভিডিও একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে। চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য আইসিসির প্রোটোকল দেখা সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রশ্ন: ডিআরএস ব্যবহার করতে কি অতিরিক্ত খরচ লাগে?

উত্তর: খেলোয়াড় বা দর্শকের জন্য ডিআরএস রিভিউ নিতে আলাদা ব্যক্তিগত খরচ লাগে না, কারণ এটি ম্যাচ পরিচালনার অংশ। তবে আয়োজক ও সম্প্রচারকারীর জন্য হক-আই, আলট্রাএজ, ক্যামেরা, অপারেটর এবং তৃতীয় আম্পায়ার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ব্যয় থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার হবে তা প্রতিযোগিতার বাজেট ও অনুমোদিত খেলার শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাই ডিআরএসের পূর্ণ সংস্করণ সবসময় দেখা যায় না।

প্রশ্ন: ডিআরএসে ক্যাচ কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?

উত্তর: ক্যাচ রিভিউতে প্রথমে দেখা হয় বল ব্যাটে লেগেছে কি না, তারপর ফিল্ডার বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন কি না এবং বল মাটিতে স্পর্শ করেছে কি না। আলট্রাএজ ব্যাটের স্পর্শ শনাক্ত করতে সহায়তা করে, আর একাধিক ক্যামেরা ক্যাচের নিচের অংশ ও ফিল্ডারের হাত পরীক্ষা করে। কোনো ফ্রেম অস্পষ্ট হলে তৃতীয় আম্পায়ার উপলব্ধ প্রমাণ ও মাঠের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করেন। তাই শব্দের সংকেত থাকলেই ক্যাচ নিশ্চিত হয় না।

প্রশ্ন: ডিআরএস কি সব ধরনের আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে?

উত্তর: ডিআরএস সব সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না; এটি কেবল অনুমোদিত পর্যালোচনা ক্ষেত্র ও ম্যাচের খেলার শর্ত অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। এলবিডব্লিউ, ক্যাচ, রান-আউট এবং কিছু নো-বল সাধারণত প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। টাইমড-আউট, খেলোয়াড়ের আচরণ বা চোটের মতো ঘটনায় ভিডিও সহায়তা থাকলেও সেটি প্রচলিত খেলোয়াড়-রিভিউয়ের একই প্রক্রিয়া নয়। তাই ম্যাচ শুরুর আগে প্রযোজ্য আইসিসি নিয়ম জানা জরুরি।

ডিআরএসের মূল শিক্ষা খুব সরল: প্রযুক্তি সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করে, কিন্তু ক্রিকেটের আইন, আম্পায়ারের ভূমিকা এবং প্রমাণের সীমা কখনো অদৃশ্য করে না।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

লাইভ আর্কাইভ

বোলিং বিশ্লেষণ · Editorial Archive

সম্পর্কিত নিবন্ধ